বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউল আহসান জুয়েল সিকদারের বিরুদ্ধে অন্তহীন অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে তিনি বিএনপির দলের হাইকমান্ডের নির্দেশ অমান্য করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দলের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছিলেন। এখন তিনি উপজেলা বিএনপির সভপতি পদে বনে যেতে মরিয়া হয়ে উঠছেন বলে দলের তৃনমূল কর্মীদের অভিযোগ।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই মাঠ পর্যায়ে সরগরম হয়ে উঠেছে বিএনপি-জামায়াত সহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ডাকা নির্বাচন বয়কট করেছিলো বিএনপি। তৎকালীন সময়ে দলের হাই কমান্ডের নির্দেশ ছিলো নির্বাচনে অংশ নেয়া ও সমর্থন করলে দল থেকে বহিস্কার করা হবে। আর এসবের নির্দেশনা অমান্য করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউল আহসান জুয়েল সিকদার নিজের বাড়িতে তৈরি করেছিলেন নির্বাচনী অফিস।
এদিকে, বিএনপি নেতা জুয়েল এর বিরুদ্ধে অন্তহীন অভিযোগ রয়েছে। নিজ দলের লোকদের হয়রানি করে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করা, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের ঘোষণা থাকলেও জুয়েল শিকদার কখনো সেই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করেননি। কিংবা খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে কখনো অংশগ্রহণ করেননি। এছাড়াও দুধল ইউনিয়নের সাবেক এই চেয়ারম্যান এক যুগেরও বেশি সময় বিএনপির সাইনবোর্ড লাগিয়ে দলে পদপদবী আঁকড়ে ধরে বিভিন্ন সময় ফাঁয়দা লুটেছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। আপোষ হচ্ছে- তাদের মামলা থেকে দূরে রাখবেন বলে। অসমর্থিত একাধিক সূত্র এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্থানীয় নেতাদের দাবি, কেন্দ্রের নির্দেশ প্রতিটি উপজেলায় দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু তিনি করেননি।
বিএনপির ভোট বর্জনের নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থীকে সমর্থন ও প্রচারণা
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারাদেশে নির্বাচন বর্জন করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভোটদান থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয় হাইকমান্ড। তা সত্ত্বেও বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক জিয়াউল আহসান জুয়েল সিকদার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রাজিব আহমেদ তালুকদারের কাপ-পিরিচ মার্কার পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি তার দুধল ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠী গ্রামের বাড়িতে কাপ-পিরিচ মার্কার নির্বাচনী অফিস স্থাপন করে সেখান থেকে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা, কর্মীদের মাঝে টাকা বিতরণ করেন। এবং নির্বাচনের দিন সকাল থেকে দিনব্যাপী নির্বাচনী স্লিপ ও টাকা বিতরণ করেন।
বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, জিয়াউল আহসান জুয়েল সিকদার কেন্দ্রীয় বিএনপির দলীয় নির্দেশ অমান্য করে আওয়ামী লীগ নেতা রাজিব আহম্মদ তালুকদারের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা গ্রহন করে তার কাপ-পিরিচ মার্কার নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন।
এছাড়া তিনি বিগত সময়ে বরিশাল নগরীর বিউটি রোডের মধ্যে একটি আবাসিক হোটেলে অবৈধ নারী ব্যবসা চালিয়ে এসেছেন।
এ সকল বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম- আহবায়ক জিয়াউল আহসান জুয়েল সিকদারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খান জানান, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ সুবিধা নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সদস্য সচিব এ্যাড. আবুল কালাম শাহীন জানান, তদন্ত করে সত্যতা পেলে দল ব্যবস্থা নিবে।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply